ভাগ্য, ধৈর্য্য ও সত্যদেবের আশ্রয় — বেদবাণী ২য় খণ্ড (১৪০) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর

ভাগ্য, ধৈর্য্য ও সত্যদেবের আশ্রয় | বেদবাণী ২য় খণ্ড (১৪০) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর

ভাগ্য, ধৈর্য্য ও সত্যদেবের আশ্রয় — বেদবাণী ২য় খণ্ড (১৪০) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর

মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি, সম্মান-অপমান—সবই প্রারব্ধ বা ভাগ্যের দ্বারা নির্ধারিত। শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর বেদবাণী ২য় খণ্ডের ১৪০ নং পত্রাংশে ধৈর্য্য ধারণ এবং সত্যদেবের স্মরণে জীবন পরিচালনার মহামন্ত্র প্রদান করেছেন।


মূল বেদবাণী

লোক সকল স্ব স্ব ভাগ্যবশে দেশ, স্থান, ধনী, মানী, বিদ্যা, বুদ্ধি ইত্যাদি দৌলত সম্ভোগ করিয়া থাকে। তাহাতেই লোক সুখী দুঃখী হইয়া থাকে। এই ভাগ্যভোগ পরিহারের জন্যই ধৈর্য্যকে আশ্রয় করিতে চেষ্টা করিতে হয়। অতএব সর্ব্বদাই ধৈর্য্য ধরিয়া চেষ্টা করুন, ভাগ্য হইতেই সকল মীমাংসা পাইবেন। ভাগ্যে যাহা থাকে তাহাই হইবে, সেই জন্য কোন চিন্তা ভাবনা না করিয়া সত্যদেবের অনুশীলন চিন্তা করুন। তিনিই একটা বিহিত করিবেন। ইহা ছাড়া কিছু নাই।

— শ্রীশ্রী ঠাকুর
[ বেদবাণী ২য় খণ্ড, ১৪০ ]

বাণীর সারমর্ম

মানুষ তার নিজ নিজ ভাগ্য অনুসারে ধন, মান, বিদ্যা, বুদ্ধি ও পার্থিব সুখ-সুবিধা লাভ করে। এই কারণেই কেউ সুখী, কেউ দুঃখী বলে মনে হয়। কিন্তু প্রকৃত শান্তি বাহ্যিক সম্পদে নয়, বরং ধৈর্য্য ও ঈশ্বরের আশ্রয়ে নিহিত।

১. ভাগ্যের উপর অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা নয়

শ্রীশ্রী ঠাকুর বলেছেন, ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তা অবশ্যই ঘটবে। অতএব ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা হতাশা মানুষের মনের অশান্তি বৃদ্ধি করে।

২. ধৈর্য্যই জীবনের প্রধান আশ্রয়

জীবনের প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য্য ধারণ করলে মানুষ ভেঙে পড়ে না। সময় ও ভাগ্যের মাধ্যমে সমস্ত সমস্যার সমাধান একদিন প্রকাশিত হয়।

৩. সত্যদেবের অনুশীলনই মুক্তির পথ

সংসারের নানা চিন্তায় নিমগ্ন না হয়ে সর্বদা সত্যদেবের স্মরণ, নাম ও চিন্তায় স্থিত থাকাই ভক্তের কর্তব্য। পরম করুণাময় স্বয়ং জীবনের যথাযথ ব্যবস্থা করে দেন।

বর্তমান জীবনে এই বাণীর প্রাসঙ্গিকতা

আজকের ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতাময় সমাজে মানুষ প্রায়ই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই বেদবাণী আমাদের শিক্ষা দেয়—

  • অকারণ দুশ্চিন্তা পরিহার করতে;
  • ধৈর্য্য ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে;
  • ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অটুট রাখতে;
  • সত্য, নাম ও ভক্তির পথে চলতে।

আধ্যাত্মিক শিক্ষা

“ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, কিন্তু ভক্তের কর্তব্য হলো ধৈর্য্য ধরে সত্যদেবের আশ্রয়ে থাকা।”

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই অমূল্য বাণী আমাদের শেখায় যে জীবনের সমস্ত জটিলতার মধ্যেও ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরশীলতা ও ধৈর্য্যই প্রকৃত শান্তির পথ।


উপসংহার

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী ২য় খণ্ডের ১৪০ নং পত্রাংশ আমাদের জীবনের প্রতি গভীর আস্থা, ধৈর্য্য এবং সত্যদেবের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পণের শিক্ষা দেয়। মানুষের নিজের শক্তির চেয়ে ঈশ্বরের বিধানই সর্বশ্রেষ্ঠ—এই উপলব্ধিই ভক্তজীবনের মূল ভিত্তি।


🌺 জয় শ্রীশ্রী রামঠাকুর 🌺
www.srisriramthakur.com
JoyRam Productions House

 

''তাহার কারণ সত্যের সেবা ভুলিয়া অসত্য অর্থাৎ অস্থায়ী প্রকৃতির গুণের রংয়ে প্রলুব্ধ হইয়া এই ভোগায়তন আয়ুঃর্ব্বেদ ঋণ-বদ্ধ দেহ পায়।অতএব অঋণী হইলেই অপ্রবাসী হইয়া এই ৮ম কালিয় জরা মৃত্যু জন্ম ব্যাধির সীমা পার হইয়া যায় ইহাকেই আয়ুঃর্ব্বেদীয় ঋণমুক্ত বলিয়া থাকে।
সত্যং পরং ধীমহী—এই বেদবাক্য।"
ভক্তপ্রবর ঁচারুদেব চৌধুরী (এডভোকেট) মহাশয়কে লিখা শ্রীশ্রীঠাকুরের পত্রাংশ
ভাগ্য, ধৈর্য্য ও সত্যদেবের আশ্রয় — বেদবাণী ২য় খণ্ড (১৪০) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর ভাগ্য, ধৈর্য্য ও সত্যদেবের আশ্রয় — বেদবাণী ২য় খণ্ড (১৪০) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on 18:01 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.