শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম সম্পর্কে অপূর্ব ব্যাখ্যা:-
"যিনি নাম পাইতে ইচ্ছা করিয়াছেন তাহাকে এই নাম লইয়া নামের সেবা করিয়া দক্ষযজ্ঞ ত্যাগ হইয়া যখন নামের অধীন অভিমান মুক্ত হইবে তখন নাম পাইবে।”
“নামে লেগে থাক। নাক করা শুধু নয়-নাম লও। নাম পাওয়া অর্থাৎ ফেলিয়া রাখা নয়। অনন্য স্মরণে লিপ্ত হইয়া থাকা। নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধ মনের সঙ্গে হয় না, প্রাণের সঙ্গে গাঁথা থাকে বলিয়া নাম লয়।”
“নামের গুণে স্বভাবের পরিবর্তন হয়।”
“সদানন্দময় এ নাম নিতে স্থান-অস্থান নাই, সময়-অসময় নাই, শুচি-অশুচি নাই। শয়নে, স্বপনে, ভোজনে, দানে, সকল কর্মানুষ্ঠানে, সর্বদাই-সর্ব অবস্থায় এই নাম করিতে করিতে নাম জাগিয়া উঠে। নাম ছাড়িবেন না। বসিয়া বসিয়া নাম করিতে হয় না। জোরে জোরে চিৎকার দিয়াও নাম করিতে হয় না।”
“নাম করে শিব রূপী প্রাণে। নাম আবরণ হীন। তাই মনের সঙ্কল্প বিকল্প অপেক্ষা রাখে না। অবিরাম নাম হয়। জীবের সাধ্য নাই নাম করে। নাম করে শিবে, নাম শুনে জীবে। নাম প্রাণে গাঁথা থাকে বইলাই নাম লয়। সেই হেতু নাম প্রাণের প্রাণ মহাপ্রাণ।”
“নাম করিতে কোন রকমের কল্পনা করিতে নাই, তাহার কারণ ভগবান অকল্প, তাঁহার নামও অকল্প, তাঁহার সঙ্গও অকল্প।”
“নাম অংশাতীত সদাপূর্ণ। তাই বলা হইছে, ‘পূর্ণস্যপূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে’। এ নাম ভাবাতীত, বোধাতীত, জ্ঞানাতীত পরব্রহ্ম। সেই জন্য বলা হইছে, ‘নাম নামেকম্ ভগবানস্তু।’ এই চির চৈতন্যময় নামের মুর্তিমান প্রকাশ মহামহান পুুরুষই সদগুরু।”
“নাম চিন্মায় রূপে সর্বকালে, সর্বত্র ত্রৈলোক্য, চর অচর, ব্যোম, পরাব্যোম, ব্যোমাতীত ধাম পর্যন্ত বিরাজিত আছেন। সেই জন্য নিত্য মুক্ত।”
“এই নাম শুনার জন্য ক্রমে ক্রমে ধীরের আশ্রয়ে যাইতে অভ্যাস করতে হয়। তবে নাম শুনা যায়। নাম শুনতে শুনতে মন থাকে না, মন মইরা যায়। সেই কারণে মন স্থির করবার কোন প্রকার চেষ্টার প্রয়োজন নাই।”
“নাম শুনবার জন্য ব্যস্ত হওয়ার কারণ নাই। নাম দেওয়ার জন্যই আমি আসছি। নাম বিতরণ আমার কাজ। সেই জন্য সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়া নাম বিতরণ রূপ গুরুর আদিষ্ট কর্মে নিযুক্ত আছি।”
“স্বয়ং কৈবল্যনাথই তাঁর মধ্যে থাইকা নাম দেন।”
“ঈশ্বরার্পিত বুদ্ধি জাগ্রত করিয়া নামকে ধরিয়া থাকিলে নামের শক্তিতে সব হয়। মন, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়, বল কিছুই লাগে না।”
“নাম এর সাথে আর কিছু লাগেনা”।
“নিয়ম মানে শৃঙ্খলা- শৃঙ্খলা মানে শৃঙ্খল। শৃঙ্খল মানে বন্ধন। আপনে ক্যান বন্ধনের মধ্যেই যাইবেন। যখন পারেন, যতবার পারেন, নাম করবেন। এর কোন বিধি নিষেধ নাই। এ নাম করতে করতেই আপনে নিত্যধামে চইলা যাইবেন”।
ঠাকুর আরও বললেন, “বুঝান যায় সকলকে শুধু বুঝেনা নিজ মন।”
“নাম করবেন অনির্বার।”
“নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধে মনের সঙ্গে হয় না। প্রাণের সঙ্গে গাঁথা থাকে বলিয়া নাম লয়।”
“বংশী-বাঁশী নহে-প্রণব, অনাহত সাদ। তাহাতে মন গেলে আর ফিরে না, কারণ ছেদ নাই। লীলা চক্রে তাহা ফোটে।”
“নামের মালাতো হৃদয়গ্রন্থিতে অবিরল ধারায় চলার কথা। এতো বিনে সুতার মালা।”
“সেবা ধর্ম শব্দটিই সতত নামের নিকটে থাকা। নাম করে প্রাণে। ধৈর্য্য ধরিয়া প্রাণের নিকট থাকিবেন, তবেই নাম শুনিতে পাইবেন। সদানন্দময় শ্বাস প্রশ্বাসের দ্বারা অবিচ্ছেদে নাম হইতেছে। তাহার সহচরী হইয়া নামামৃত পান করুন।”
“আপনে নাম লইয়া অফিসে যাইবেন, নাম লইয়া কলম ধরবেন, আবার কলম থুইয়া নাম লইয়া বাড়ী ফিরবেন। রাস্তায় হাঁটার সময় নাম করিতে পার না? তাহা হইলে আঘাত লাগিত না।”
“নামে সকল দেবতা তুষ্ট হন। দেব-দেবী বিভিন্ন আকারের প্রকারের ও বিভিন্ন নামের হইলেও মূলতঃ এক। গুরু দত্ত নাম মন্ত্রে সকল দেব দেবী তুষ্ট থাকেন। যেহেতু দেব দেবী নাম ব্যতীত আর কিছুই নন। সব নাম এক ও অভিন্ন।”
“যিনি নিরন্তর নামের সেবা করেন-তিনি জ্ঞান লাভ করে সর্বপ্রকার ঋণ মুক্ত হন। পরে মৃত্যুশেষে নিত্যধামে গমন করে চিরকাল ভগবৎসমীপে বাস করেন।”
#দয়াল ঠাকুর শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
No comments: