ঠাকুর নামের মধ্যে কি আছে?
“গুরু প্রসন্ন হয়ে যা দেন তাই প্রসাদ। প্রসাদের স্বাদ কখনও নিম্নগামী হয় না। প্রসাদ যে অবস্থায় পাওয়া যায় সে অবস্থায় নিতে হয়। প্রসাদ না নিয়ে গেলে ফিরা আসতে হয়।
* ঠাকুর বলেন, “এ নাম নিতে সময়-অসময়, স্থান-অস্থান, শুচি-অশুচি নাই”।
“গু-শব্দে অন্ধকার, রু-শব্দে আলো” গুরু শব্দে অন্ধকারে আলো।”
“গুরু বলতে নামই গুরু। শ্রীগুরু প্রদত্ত নামই সদ্গুরু। এই নাম জীবের ত্রিগুণাত্মিকা বিষয় সমূহ যথা-মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার, দশ ইন্দ্রিয়ের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর কইরা নাম আলোতে আনয়ন করেন বইলাই সদ্গুরু বা সত্য গুরু বলা হয়।”
“সদ্গুরুর কাজ হইল ভক্তকে উদ্ধার করা। ভক্ত নাম করুক আর না করুক, সদ্গুরু যিনি তিনি ভক্তকে উদ্ধার করিবেনই।”
“কুল কিনারা, গুরু নাম। কুলগুরু অর্থাৎ নামের কিনারে থাকেন। ভব সাগরের কুলে যিনি নিয়ে যান, তিনিই কুল গুরু। [ কুলকুণ্ডুলিনী শক্তি যিনি জাগিয়ে দেন তিনিই কুলগুরু।
“ প্রার্থিব গুরু ভগবানের কৃপাশক্তির বাহক”।
“ আমি না আইলে আত্মা নিবে কে? আর কারো নেওনের শক্তি নাই। আপনার যখন সময় হইব তখন আমি খুব ছোট হইয়া আপনারে নিয়া যামু।”
“গুরু বলতে নামই গুরু। গুরু শব্দও নাম বই আর কিছু নয়। গুরু নামে পাওয়া নামে কোন পার্থক্য দেখিনা। গুরু গিরি করা অত সহজ নয়। অনেক মহামহানেরাও গুরু গিরি করতে চান না।”
“গুরু বলতে নামই গুরু। গুরুদেহ নামের দেহ। সুতরাং নাম এবং গুরু দেহ একই বস্তু জাইনা নাম নিয়া পইড়া থাকতে হয়। কালের মহাচক্র আবর্তিত হইতেছে। মনে রাইখো এটা মায়ার জগৎ। সকলি ভুল, সকলি ভ্রান্তি।”
“নাম! নাম করিলেই গুরুকে পাওয়া যায়। নামের মাধ্যমে তাঁহার সহিত যোগাযোগের কেন্দ্র স্থাপিত হয়। সেই কেন্দ্র স্থাপন করিলেই ‘তত্ত্বমসি’ তুমিই সেই পরব্রহ্ম, যাহা প্রত্যেকের অন্তরে নিহিত আছেন, তাহা উপলব্ধি করা যায় এবং তাঁর কৃপা লাভ হয়। নাম আর ভগবান এক।”
“গুরু দর্শনের সময় নির্ধারিত আছে, তাহার পূর্বে বা পরে গুরু দর্শন পাওয়া যায় না।”
“গুরুরা যা দেন তা বীজ। বীজ গোপনে রাখতে হয়। এখানে যা পাইছেন তা ফল-পুষ্প সমম্বিত মহামহীরুহ। ফলটা দিলাম, শুধু-পাড়েন আর খায়েন, শুধু-পাড়েন আর খায়েন।”
“ দীক্ষা-দেখা। দর্শন-আত্ম দর্শন। নাম করিতে করিতে দেখা হয়।”
“গুরু বাক্যই গুরু। গুরু বাক্যে অন্ধ বিশ্বাস না থাকলে ইহকাল আর পরকাল দুইই হারায়।”
“গুরু আসেন নিতে, তিনি দিতে আসেন না। দিয়ে তিনি ব্রজের পথে বিলম্ব ঘটাতে চান না। আমি তো শিব হইতে আসি নাই, আসছি আপনেগ সেবা করতে। আমি আবার ধরাধামে আসুম। আপনারা আবার সঙ্গে আসবেন। আমিতো উপদেষ্টা নই দৃষ্টান্ত মাত্র।”
" নামের সঙ্গই গুরু সঙ্গ। নামের সেবাই গুরু সেবা।”
“সেবা কথাটি নামের নিকটে থাকা।”
“ এ নাম হইল গুরু মূর্তি।
“ নাম নিবেন। (গুরুর কাছে), অপরাধ কিছুই নাই। না, আমি কারো দোষ দেখি না।”
“নামে আত্মসমর্পণই গুরুতে আত্মসমর্পণ।”
“ যার জীবনই নাই তার আবার জীবনী কিসের? জন্ম একবারই হয়, সেই বৃন্দাবন থেকে একই আছি।”
“গুরুর মত গুরু বংশধরগণেও শ্রদ্ধা-ভক্তি, সম্মান প্রদর্শণ করতে হয়। নচেৎ ঘোরতর অপরাধে অপরাধী হতে হয়।”
“গুরুর পদ সেবা অর্থে গুরুর আশ্রয় ভিক্ষা। গুরু সর্ব্বজ্ঞ ও সর্বদর্শী। গুরু কৃপায় সবই লাভ হয়। গুরুর আশ্রিত ব্যক্তিকে পাপ স্পর্শ করতে পারে না। গুরু পাত্রানুযায়ী বীজ বপন করেন। গুরুর বীজ নিষ্ফল হয় না। প্রত্যেক অণু-পরমাণুই গুরুর অংশ।”
“গুরুকে দিলে সর্বস্ব দিতে হয়।”
“গুরু বলতে নামই গুরু। অতএব নাম হইল গুরু মূর্তি। ধ্যান বলে চিন্তারে। নাম চিন্তায় গভীরভাবে নিমগ্ন থাকাকে ধ্যান বলে। নাম চিন্তা করলেই গুরু মূর্তির চিন্তা করা হয়। পৃথক ভাবে চিন্তা করতে হয় না।”
“নাম জন্ম মৃত্যুর অতীত, নামের মধ্য দিয়াই গুরুর কৃপা সর্ব্বক্ষণ বর্ষিত হয়। এই নাম হইল গুরু কৃপা। কৃপা শব্দ হইছে, কৃ ধাতু দিয়া, কৃ অর্থ করা। পা-অর্থ পাওয়া, পূর্ণ অর্থ হইল কইরা পাওয়া।”
“আমার এই নশ্বর দেহটারে টানাটানি না কইরা আমার ফটোর নিকটে বইস্যা স্থির চিত্তে নাম করলেই তো আমারে পাওয়া যায়। আমি সর্বদাই আপনাগো সঙ্গে সঙ্গে থাকি। কিন্তু কোথাও যাই না। আয়নাতে আপনারা আপনাদের চেহারা যেমন দেখেন তার চাইতেও পরিষ্কার আমি আপনাগো দেখি।”
“এই নাম হইল, জীবের জীবাত্মা বা প্রাণ বা দেহী। এই নামের ধ্বনিরে বলা হয় প্রণব ধ্বনি, ওঁকার ধ্বনি, বংশী ধ্বনি, হংস ধ্বনি। এই নাম জীবের একমাত্র সম্বল। নামই সত্য, নামই নিত্য। নামও নামী অভেদ। নাম স্থির। নামের অংশ নাই কম্প নাই। নাম নিত্য শুদ্ধ-নিত্য মুক্ত। নাম আবরণ হীন। নামই গুরু, নামই সাক্ষাৎ ভগবান। নামই বৃন্দাবন বাসী, নামই ব্রজবাসী-মথুরা বাসী। নামই ব্রজেন্দ্র নন্দন। ব্রজবাসীর নিকট সর্বদাই ভগবান বাস করেন। নাম সদাপূর্ণ। নামে আছে সবকিছু। নামের শক্তি গদাধর, নামের ভাব অদ্বৈত, নামের রূপ শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য।”
“ নামের মধ্যে অক্ষয় সুধা লুকিয়ে আছে। অনবরত নাম করিতে থাকিলে একদিন সেই সুধার আস্বাদ পাওয়া যাবেই, তাতে কোন সন্দেহ নাই। দেবতাদেরও নাম করতে হয়। নিস্কৃতি কৈ? নাম সদাপূর্ণ। কষ্ট করেই বের করতে হয়। প্রত্যেকের নাম করা উচিৎ।”
“ সর্বদা সর্ব ব্যবস্থায় এই নাম জপ করিতে হইবে। অনন্য মনে নাম জপ করিলে অপ্রাপ্ত কিছুই থাকে না। নাম ও নামী একই সুতরাং নামের আশ্রয় করিলে জীবের কিছুই অমঙ্গল হইতে পারে না। সততঃ আনন্দেই ইহকাল ও পরকাল থাকিতে পারে।”
No comments: