শ্রীশ্রী রামঠাকুর ও দেবেন্দ্র ভাইয়ের ভক্তি | চরণামৃতের মহিমা
শ্রীশ্রী রামঠাকুর-এর জীবনের অসংখ্য ঘটনা ভক্তদের হৃদয়ে আজও গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার অনুভূতি জাগায়। তাঁর ভক্তদের প্রতি স্নেহ, তাঁদের অন্তরের ভাব উপলব্ধি এবং ঈশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তির বহু দৃষ্টান্ত তাঁর জীবনকথায় পাওয়া যায়। এমনই একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রীরোহিনীকুমার মজুমদার-এর লেখায়।
ঠাকুরের চরণামৃতের প্রসঙ্গ
ঠাকুর ঢাকা হইতে প্রমথদার বাসায় আসিয়াছেন। কিছুক্ষণ পর ঠাকুর সবাইকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন—
“রেলে নিম্নপদস্থ একজন কর্মচারী ষ্টেশনে কাজ করে, আমি তাঁহার বাসায় যাইব।”
সেই কর্মচারীটির নাম জিজ্ঞাসা করিলে ঠাকুর বলিলেন—
“আমি সঠিক বলিতে পারি না, আমি তাঁহার বাসায় যাইব বলিয়া প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলাম।”
উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে কেহই বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝিতে পারিতেছিলেন না। এমন সময় শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা মধুসূদন মুখার্জী সেখানে উপস্থিত হন। মধুবাবু ঠাকুরকে বলিলেন—
“বাবা, দেবেন্দ্র এখন ফেনীতে নাই, বেলনিয়া বদলী হইয়াছে।”
ঠাকুর বলিলেন—
“তাঁহাকে সংবাদ দেন। আগামীকাল তাঁহাদের বাসায় যাইব।”
দেবেন্দ্রের আগমন
এই সংবাদ পাইবামাত্র দেবেন্দ্র ফেনী আসিলেন। ঠাকুরকে প্রণাম করা মাত্র ঠাকুর বলিলেন—
“কাল আপনার বাড়ীতে যাইব।”
দেবেন্দ্র বিনয়ের সঙ্গে বলিলেন—
“ওটা আমার বাড়ী নয়, আপনার বাড়ী।”
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দেবেন্দ্র ঐ বাড়ী ঠাকুরের নামে পাহাড়তলী কৈবল্যধামে দানপত্র করিয়া দিয়াছেন।
চরণামৃত গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা
দেবেন্দ্র আসার সময় চরণামৃত লইবার জন্য একটি কলসী লইয়া আসিয়াছিলেন। জলভরা কলসীটি ঠাকুরের শ্রীচরণের বৃদ্ধাঙ্গুলী স্পর্শ করানো হইল।
ঠাকুর হাসিয়া বলিলেন—
“আমার পা দুইখানা পুকুরের জলে ভিজাইয়া রাখেন, যার যত ইচ্ছা চরণামৃত লইতে পারিবে।”
ঠাকুরের এই সহজ, স্নেহময় কথার মধ্য দিয়েই ভক্তদের প্রতি তাঁর অসীম করুণার এক অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছিল।
বেলনিয়ার পথে শ্রীশ্রীঠাকুর
পরদিন প্রায় সকাল ৮টার ট্রেনে শ্রীশ্রীঠাকুরকে লইয়া প্রমথদা, তুলসীভাইসহ ৮/১০ জন ভক্ত বেলনিয়া অভিমুখে রওনা হইলেন।
প্রায় সকাল ১০টার সময় ট্রেনটি বেলনিয়া পৌঁছিল। ঠাকুর গাড়ী হইতে অবতরণ করিলে দেবেন্দ্র ভাই তাঁহাকে বাড়ী লইয়া গেলেন।
চারিদিকে তখন ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ভিড়। দেবেন্দ্রর ঘরের পশ্চিম পার্শ্বের বিছানায় ঠাকুর বসিলেন। ঘরের পূর্ব পার্শ্বে একটি সিংহাসনের উপর শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথের একটি চিত্রপট বসানো ছিল।
দেবেন্দ্র ভাইয়ের অনন্য ভক্তি
ঠাকুর বিছানায় বসার পর দেখা গেল, দেবেন্দ্র মুহুর্মুহু ঐ চিত্রপটের সম্মুখে প্রণাম করিতে লাগিলেন। কাতর হইয়া তিনি কী যেন প্রার্থনা করিতেছিলেন।
তাঁহার এই ভাব দেখিয়া মনে হইল—রক্তমাংসের ঠাকুরের সহিত যেন তাঁহার কোনো সম্পর্ক নাই; যাহা কিছু আবেদন-নিবেদন, সবই সেই চিত্রপটের কাছে।
সামান্য পয়েন্টসম্যান দেবেন্দ্র ভাই। কিন্তু তাঁর অন্তরের ভক্তি ও ঈশ্বরনিষ্ঠা দেখে উপস্থিত সকলে তাঁহার আধ্যাত্মিক উচ্চতা উপলব্ধি করিতে লাগিলেন।
ভক্তির প্রকৃত শিক্ষা
অধিকাংশ আশ্রিত ভক্তই অনেক সময় ঠাকুরকে নিজেদের কাছে রাখিবার জন্য টানাটানি করিতেন। কিন্তু দেবেন্দ্র ভাইয়ের ভক্তির আদর্শ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বাহ্যিকভাবে উপস্থিত শ্রীশ্রীঠাকুরের পরিবর্তে তাঁর আরাধ্য শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথের চিত্রপটের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করিতেছিলেন।
এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত করেছিল। ভক্তির প্রকৃত অর্থ যে বাহ্যিক অধিকার নয়, বরং অন্তরের আত্মসমর্পণ—দেবেন্দ্র ভাইয়ের আচরণ যেন সেই শিক্ষাই প্রদান করেছিল।
শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏
শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
লেখক: শ্রীরোহিনীকুমার মজুমদার
আধ্যাত্মিক ভাবনা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবন ও বাণী আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের ভক্তি বাহ্যিক প্রদর্শনে নয়—ভক্তের অন্তরের শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ এবং ঈশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠতার মধ্যেই তার প্রকাশ।
দেবেন্দ্র ভাইয়ের এই ঘটনা তাই শুধু একটি স্মৃতিচারণ নয়; এটি ভক্তির গভীরতা ও গুরুভক্তির এক অনুপ্রেরণাময় দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন ও অনুসরণ করুন
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের জীবন, বাণী, ভক্তিগাথা এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারা সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন:
Joyram Productions Creations
শ্রীশ্রী রামঠাকুর, রামঠাকুরের জীবনকথা, দয়াল ঠাকুর, শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ, দেবেন্দ্র ভাই, রামঠাকুরের ভক্ত, চরণামৃত, গুরুভক্তি, রামঠাকুরের অলৌকিক ঘটনা, Sri Sri Ram Thakur, Ram Thakur, Kaibalyanath, JoyRam Productions, Sri Sri Ram Thakur Life Story
Suggested Blogger Labels:
Sri Sri Ram Thakur, Ram Thakur, Kaibalyanath, Gurubhakti, Charanamrit, Ram Thakur Life Story, Devotional, Bengali Spirituality, JoyRam Productions
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
22:44
Rating:
No comments: