ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে রামচন্দ্রায়
ওঁ নমঃ শ্রী রামচন্দ্রায় মৃদু মধু ভাষিণে;
সৌম্য শান্তায়বমতারায় তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।
গুরু কৃপাহি কেবলম্
উপায়-নিরুপায়
ভক্তিমতী রমণী কান্নায় ভেঙে পড়লেন। এ যে মৃত্যু-শোক। কে দেবে সাত্বনা? সাত্বনার ভাষাও তো নেই। স্বামী গেল, তার কয় বছর পর ছোট মেয়ে সমীও পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল। মহিলাটি হলেন অতুলবাবুর স্ত্রী। তিনিও রামঠাকুরের ভক্ত ও শিষ্যা। এমন শোকের দিনে ঠাকুর এসে পাশে দাঁড়ালেন। সাত্ত্বনা দিলেন। তারপর তাঁদের ঠাকুরঘরে গিয়ে বসলেন। হঠাৎ তাঁদের বাড়ীর পরিচারিকা দেখলো ঠাকুরের কোলে বসে রয়েছে অতুলবাবু'র ছোট্ট মেয়ে সমী। সে ছুটে গিয়ে বললো অতুলবাবু'র স্ত্রীকে। সেও ছুটে এসে তার মৃত মেয়েকে কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখতে পেলো রামঠাকুরের কোলে, শান্ত হয়ে বসে আছে। ঠাকুর বললেন 'কাঁদতে নাই সে তো ভালই আছে।' এবারে ঠাকুরের পায়ে মাথা লুটিয়ে প্রণাম করলো সেই ভক্তিমতী রমণী। এইভাবে ঠাকুর সন্তানহারা মা'কে সাত্ত্বনা দিলেন। ঠাকুর বলেন, 'উপায়-নিরুপায়,-----সম্পুর্ণরূপে নিরুপায় না হলে উপায় হবে না।' নাম-নাম নাম করেন। নামেই শান্তি। নাম সত্য, নাম নিত্য। তাঁর কীর্তনেই আনন্দ। নামেই সকল অবস্থা স্থির করিয়া নিবে। দুশ্চিন্তা করিবেন না। সংসারে শান্তি কোথায়? প্রারব্ধ বশতঃ জীবের গতাগতি, স্থিতির যোগ বিয়োগ উৎপন্ন হয়।
জগতে যাহা কিছু সংযোগ বিয়োগ (জন্ম-মৃত্যু) হইয়া থাকে সকলি রাক্ষসী, আসুরী মায়া জানিয়া সকল অবস্থাকে তুচ্ছ করিয়া ফেলিতে চেষ্টা করিবেন। এ জগতে কত লোকের কত রকম অবস্থা, দুরবস্থা ঘটে তাহা দেখিয়া শুনিয়া ধৈর্য্য ধরিতে চেষ্টা রাখা উচিত।
সংগৃহীত
কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর
পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০-১১
No comments: