অক্ষয় তৃতীয়া ও রামঠাকুরের মহিমা | মন শান্তির সহজ উপায় | Sri Sri Ramthakur Teachings@Joyramjoygobinda
অক্ষয় তৃতীয়া ও রামঠাকুরের মহিমা | মন শান্তির সহজ উপায় | Sri Sri Ramthakur Teachings@Joyramjoygobinda
শুভ অক্ষয় তৃতীয়া
'' জন্ম অক্ষয়, এইটার ক্ষয় নাই। অক্ষয় হইয়াই আছে। জন্ম হইল অক্ষয় তৃতীয়ায়। অক্ষয় তৃতীয়ায় আমি মাতৃ জঠরে ভ্রুনস্থ হইছি, অক্ষয় তৃতীয়ায় দ্বিজ হইছি, অক্ষয় তৃতীয়ায় সূক্ষ্মে দীক্ষালাভ হইছে, আবার দীক্ষার পর এক অক্ষয় তৃতীয়া মধ্যে আইলে পরের অক্ষয় তৃতীয়ায় কামাখ্যা পাহাড়ে স্থূলভাবে গুরুদর্শন হইছে ,আবার এই অক্ষয় তৃতীয়ায় হয়ত এই দেহ ছাড়তে হইব। যেইদিন মাতৃজঠর হইতে ভূমিষ্ঠ হইছি সেইটাই হইল অপ্রকট লীলা।"
এই তিথিতেই ১৩৫৬ বঙ্গাব্দের ১৮ বৈশাখ অগণিত ভক্ত ও শিষ্যদের অশ্রুজলে ভাসিয়ে জড়দেহ ত্যাগ করে সূক্ষ্মদেহ ধারণ করেন শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর। এইদিনে মহাসমারোহে বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার চৌমুহনীতে সমাধি মন্দিরে তিরোভাব উৎসব ও সমাধি স্নান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছেন ঠাকুরের অসংখ্য ভক্ত, শিষ্য ও অনুরাগী। সময়ের অভাবে হোক,,,বা পরিস্থিতি,,,,সকলে সমাধি স্নানে অংশ নিতে পারেন না। তবে তা নিয়ে দুঃখের কারণ দেখি না। সকলের ঘরের শ্রীপটে পূজা অর্চনা ও নাম জপপূর্বক এই বিশেষ তিথি ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভ সম্ভব। শ্রী শ্রী ঠাকুর বারবার নানা লীলার মাধ্যমে পটে তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতির কথা ব্যক্ত করেছেন :
"....একবার শ্রীশ্রী ঠাকুর বাগানের ঘরে বসে আছেন। আমার ছোট ভাই শংকর এক সময় লজেন্স খাচ্ছিল। শ্রীশ্রী ঠাকুরকে একটা লজেন্স দিয়ে বলল, "তুমিও খাও।"
সামান্য হেসে সামনে বসানো শ্রীশ্রী ঠাকুরের ছবি দেখিয়ে শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন, " তুমি ঐখানেই দাও। দেখো না আমার দাঁত নাই, তাই ঐখানেই দাও, তাইলেই আমার খাওয়া হইব।"
কি দয়াল আমাদের শ্রীশ্রী ঠাকুর। কত স্পষ্টভাবে, কত সাধারনভাবে বুঝিয়ে দিলেন, ও ছবি তো শুধুমাত্র ছবি বা পট নয়, জীবন্ত বিগ্রহ, তাতে শ্রীশ্রী ঠাকুর স্বয়ং বিদ্যমান। তাই তো তিনি বললেন, "ঐখানে দাও, তাইলেই আমার খাওয়া হইব।" তিনি স্বয়ং উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ছবির উল্লেখ করলেন, বোঝালেন আমরা শ্রীশ্রী ঠাকুরকে ছবিতে দেখি, সে ছবি শুধু ছবি নয়, তা যে জীবন্ত, স্বয়ং তিনি বিদ্যমান। আমরা বুঝি না বুঝি, দেখি বা না দেখি শ্রীশ্রী ঠাকুর তাতে স্পষ্টভাবে আছেন। আর তাই শ্রীশ্রী দয়াল ঠাকুর দয়া করে আমাদের এভাবে বুঝিয়ে দিলেন।....."
-- জয় গুরু শ্রীরাম(শ্রী অজিত কুমার সেন)
"......শ্রী শ্রী রামঠাকুর মহাশয় তাহার আশ্রিতজনদের প্রায়ই বলিতেন "এই খাঁচাটার পিছনে ঘুইরা লাভ কী, ঐ পটের মধ্যেই তো আমি আছি।" ঠাকুর মশাই এর এই বাক্যের মর্মার্থ কেহই তেমন গুরুত্ব সহকারে বুঝার চেষ্টা করিতেন নাহ্।.....ঠাকুর মশাই যথারীতি ভক্ত পরিবেষ্টিত হইয়া নির্দিষ্ট বিছানার উপরে বসিয়া শুভবিজয় করিতেছেন। ভক্তরা একে একে উপস্থিত হইতেছেন শহরে মশার উপদ্রব বড় বাড়িয়া গিয়াছে। গৃহকর্তা বিকাল হইতেই ধুপধুনা দিয়া মশা তাড়াইবার ঔষধ পত্রাদি ছড়াইয়া ঠাকুর এবং ভক্ত জনদের যাতে মশা দংশন করিতে না পারে তার ব্যবস্থা করিয়াছেন। ঐ সকল ব্যবস্থায় বাস্তবেই মশার উপদ্রব ঘরের ভিতর ছিল না। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়াছে অনেকক্ষণ। এরমধ্যে বালক ননী সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। এই সময়ে ননীর দিদি লক্ষ্য করেন যে ঠাকুরের গৌর বর্ণ দেহে স্থানে স্থানে চাকা চাকা লালচে দাগ ভরিয়া গিয়াছে। দেহের সেইসব স্থানে ঠাকুর হাত বুলাইতেছেন। এই দৃশ্য দেখিয়া ননীর দিদি তাঁহা -কে প্রশ্ন করেন ," ঠাকুর মশাই আপনার দেহে এইসব কিসের গোটা দেখা যাইতেছে ?"
ঠাকুর : " অঃ,এইগুলা,এইগুলা মশা কামড়াইতে আছে,,,,"
ননীর দিদি:"ঘরে তো মশা নাই মশা কামড়াইবে কি করিয়া?"
ঠাকুর : "আমনেগো ঘরে মশারী না টানাইয়া শয়ন দেয়া হইসে। তাই মশা কামড়াইতে আসে।"
ব্যস্ত হইয়া দিদি ছোট ভাই ননী কে জিজ্ঞাসা করলে ননীর তখন মনে পড়িয়া গেল যে সে, তাড়াতাড়িতে ঠাকুরের শয্যায় মশারী টাঙাইতে ভুলিয়া গেছে। দিদির কথায় ননী তখনই বাড়ি যাইয়া ঠাকুরের শয্যায় মশারী টাঙিয়ে দিয়ে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঠাকুরের শ্রী দেহের লাল দাগ গুলো মিলাইয়া যায়। শ্রী পট ও শ্রী দেহ যে অভিন্ন তা বোঝানোর জন্যই শ্রী শ্রী ঠাকুরের এই লীলা।....."
"...শ্রীশ্রী রামঠাকুর একদিন নিজেই বলিতেছিলেন ,
“ আমার পিছনে ঘুইরা কি লাভ ? আমি তো পটের মধ্যেই আছি, যার যা দরকার ঐ পটের সম্মুখে নিবেদন করিলেই আমি পাই।” শ্রীশ্রী ঠাকুরের এই কথাটির প্রমাণ স্বরূপ নিম্ন বর্ণিত ঘটনা উল্লেখ যোগ্য :
১৩৩৭ বাংলা সনের চৈত্র মাসে ঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত শ্রীযুক্ত হরিদাস আচার্য্য মহাশয় পটের সম্মুখে গরম গরম পোলাও রান্না করিয়া ভোগ দিয়াছেন । কিছুক্ষণ বাদে তিনি দেখিতে পাইলেন যে, বাঁধান পটের ভিতর ঠাকুরের গা বহিয়া জল পড়িতেছে।
এ দৃশ্যে তিনি খুব আতঙ্কিত হইয়া একখানা হাতপাখা লইয়া তাড়াতাড়ি ঠাকুরের পটখানাকে বাতাস করিতে লাগিলেন ।
কিছুক্ষণের মধ্যে ঘাম নিবারিত হইল। পরে তিনি ধীরে সুস্থে ডাব কাটিয়া ভোগ দিলেন। ইহার কিছুদিন পরে ঠাকুর ঢাকায় আসিলে তিনি ঠাকুরের নিকট সব কথা বলিলেন।
উত্তরে ঠাকুর বলিলেন ,
“ একে গরম, তার মধ্যে গরম গরম খাদ্য দেওয়া হইয়াছে । একটু ঠাণ্ডা করিয়া দিলে আর এমনটি হইত না।”...."
"......ঠাকুর বলিতেন তাঁহার চিত্রপটের মধ্যে তিনি সর্ব্বদাই বিরাজ করেন। তবু ঠাকুরকে শ্রীদেহে দেখিবার জন্য, তাঁহার শ্রীদেহের সান্নিধ্যে থাকিবার জন্য আমাদের এত আগ্রহ ও ব্যাকুলতা কেন ছিল। ভুল করিতাম, ভ্রম বশতঃ তাঁহার চিত্রপটে সম্পূর্ণ বিশ্বাস অসিত না। আমার স্ত্রী একদিন ঠাকুর দর্শনোদ্দেশ্যে রাত্রি প্রায় ১০ ঘটিকার সময় শ্রীযুক্ত রোহিণীবাবুর বাসায় গেলেন, সঙ্গে আমিও ছিলাম। ঠাকুর শুইয়া পড়িতেছিলেন, আমার স্ত্রীকে দেখা মাত্রই উঠিয়া বসিলেন। তিনি ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া নীচে বসিলেন। ঠাকুর ধীরে ধীরে আমার স্ত্রীকে বলিলেন, " আপনার নিকট যে চিত্রপট আছে সেখানে তো আমি নিত্য বিরাজমান, তবে অনর্থক কষ্ট করিয়া আমার নিকট আসার প্রয়োজন কি ?" ইহার পর আমার স্ত্রী ঠাকুরের নিকট বেশি যাইতেন না।..."
- তাঁর স্মরণে (শ্রীউপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়)
(উল্লেখিত লেখা সকল বিভিন্ন গুরুভ্রাতাভগ্নী হতে সংগৃহীত)
- তাই,,,এই পুণ্য তিথিতে শ্রীপট (যা শ্রীদেহ হতে অভিন্ন)-এ নামপূর্বক শ্রী শ্রী ঠাকুরের আরাধনা করে কৃপা লাভ করুন।
ভগবানের কৃপা সকলের উপর অক্ষয়ভাবে বর্ষিত হোক।
অক্ষয় তৃতীয়া ও রামঠাকুরের মহিমা | মন শান্তির সহজ উপায় | Sri Sri Ramthakur Teachings@Joyramjoygobinda
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
23:09
Rating:
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
23:09
Rating:
No comments: